সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান

  • আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন
পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ ::
ঋতুরাজ বসন্ত এখনও পুরোপুরি আসেনি, শিমুল ফুলও ফোটেনি, তবুও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগান- ‘আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান’। তবে আর বেশি দিন অপেক্ষা নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী সপ্তাহ থেকেই শিমুল ফুল পুরোদমে ফুটতে শুরু করবে। হাওর ও পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও (ইলামপুর) এলাকায় অবস্থিত এই বাগানে শাখায় শাখায় ফুটবে রক্তরাঙা শিমুল ফুল। পুরোদমে শিমুল ফুটলে দূর থেকে তাকালে মনে হবে- ঘন সবুজের মাঝে যেন আগুন জ্বলছে, কিংবা কোনো অগ্নিগিরি দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফাগুনে এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকের ঢল নামে এই বাগানে। সাধারণত মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিমুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বসন্ত না এলেও, শিমুল ফুল না ফুটলেও গত শুক্রবার সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত প্রকৃতিপ্রেমীর পদচারণায় মুখরিত আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। এ সময় কথা হয় সিলেটের ই¤েপরিয়াল হাসপাতালের নার্স রহিমা জান্নাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৫০ জন এসেছি একটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে। আসার পথে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কিছুটা বিরক্তি ও ক্লান্তি লেগেছিল। কিন্তু এখানে এসে বাগান দেখার পর সব ক্লান্তি যেন উধাও হয়ে গেছে। আবার আসার চেষ্টা করব। সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। আরেক দর্শনার্থী স¤পা রায় বলেন, এই বাগান থেকেই দেখা যায় পাশের ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সুউচ্চ খাসিয়া পাহাড়, তার পাশেই রূপের নদী যাদুকাটা ও বিস্তীর্ণ বালুভূমি। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কেউ নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না যে, হাওরের এই উপজেলায় এত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন হলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে যেত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ও রূপের নদী যাদুকাটার তীরে অবস্থিত বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও (ইলামপুর) এলাকায় ২০০২ সালে শখের বসে প্রায় ৩৩ একর বালুকাভূমি ক্রয় করেন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, বৃক্ষপ্রেমী ও শিক্ষানুরাগী প্রয়াত আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। সেখানে তিনি প্রায় আড়াই হাজার শিমুল গাছ ও এক হাজারের মতো লেবু গাছ রোপণ করেন। সে সময় অনেকেই বলাবলি করতেন- এই বালুতে গাছ কীভাবে টিকে থাকবে? কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে নিজের তত্ত্বাবধানে নিরলস পরিশ্রমে গাছগুলোর পরিচর্যা করে তিনি বাগানটিকে সফলভাবে গড়ে তোলেন। তার হাতে গড়া এই শিমুল বাগান যে আজ এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগানে পরিণত হয়েছে এবং হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমীর আকর্ষণকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্য তা তিনি দেখে যেতে পারেননি। বর্তমানে বাগানটির দেখভাল করছেন তার সন্তানরা। প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে, বাদাঘাট ইউনিয়ন ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে বাগানের চারপাশে কাঁটাতারের বাউন্ডারি, ওয়াশরুম, চেঞ্জিং রুম এবং একটি ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও উন্নয়ন কাজ করা হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেমের উদ্যোগে বাগানে আগত পর্যটকদের বসার জন্য আধুনিক বেঞ্চ, শিশুদের খেলাধুলার জন্য দোলনা, একটি আধুনিক রেস্ট হাউস ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স